×
অফবিট

সেনা বাহিনীতে জোটেনি চাকরি, শেষমেস গাঁদা ফুলের চাষ শুরু করে বর্তমানে মাসিক আয় দেড় লক্ষ

বিজ্ঞাপন

বিগত কয়েক বছর আগে যখন করোনার জেরে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশব্যাপী লকডাউনের ঘোষনা করেছিলেন সেই সময় ফুল চাষীদের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়েছিল। কারন সেই সময় মন্দির মসজিদ সবকিছু বন্ধ থাকায় ফুলের চাহিদা কমে গিয়েছিল। যার ফলে অনেক ফুল নষ্টও হয়। তবে, এই সমস্ত ক্ষতির সম্মুখীন হলেও হাল ছাড়েননি ভোজপুরের বেনুয়ার টোলার বাসিন্দা। নিজের আড়াই বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল লাগিয়ে প্রায় ৬০০০ টাকা ইনকাম করছেন দীপক!

বিজ্ঞাপন

উপেন্দ্র কুমারের পুত্র দীপক। বয়স তাঁর ২৪। তাঁর স্বপ্ন ছিল ডিফেন্সে যাওয়ার। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর কঠর পরিশ্রম করলেও পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তার জীবনের সফলতা অন্য কোথাও নয় বরং লুকিয়ে রয়েছে চাষাবাদের মধ্যে। দীপকের বাড়িতে সকলেই ঐতিহ্যবায়ী কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। কেউবা গম আবার কেউবা ধান চাষ করতেন। কিন্তু সবার থেকে কিছুটা আলাদা করতে চেয়ে ছিলেন তিনি। তাই তো ২০২০ সালে ৪ টি প্রজাতির গাঁদা ফুল রোপন করে নিজের খেতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি।

খবর সূত্র জানা গিয়েছে, তাঁর ডিফেন্স যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না তখন তিনি চাকরির পিছনে পড়ে না থেকে কৃষিকাজকে তার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়ে ইউটিউব দেখে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার গাঁদা ফুলের চাষ শুরু করেন। বলাবাহুল্য, অফ সিজনে প্রতিদিন ফুল বিক্রি করে আয় হয় ১৫০০ টাকা। আর কোন ধর্মীয় বা অনুষ্ঠান হলে সেক্ষেত্রে ফুলের চাহিদা একটু বেশি বেড়ে যায় এবং মানুষজন অগ্রিম বুকিং শুরু করেন। সেক্ষেত্রে প্রায় ৫০০০ টাকা ইনকাম করেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, যতদিন কৃষকেরা ঐতিহ্যবাহী ক্ষেতে সময় বিনিয়োগ করবেন ততদিন তারা ফুল থেকে বেশি লাভ করতে সক্ষম হবেন। এমনকি ফুল চাষীদের সুবিধার জন্য একটি বার্তাও দিয়েছেন সেটি হল- যদি আপনারা জানুয়ারি থেকে উন্নত গাঁদার বীজ রোপণ করতে পারেন তবে মার্চ মাস থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। বলাবাহুল্য দীপকের চাষ করা ফুল সরবরাহ হয় ভবুয়া, বক্সার, নোখা, আরা, বাবুরা,পাটনা ইত্যাদি অনেক এলাকায়।

Related Articles