×
অফবিট

একদা স্ত্রীর পায়ের জুতো কেনার জন্য ছিলনা টাকা! আজ বছরে করেন ১৮ কোটির ব্যবসা, রইল বিস্তারিত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ আমরা যে ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনায় করব, তিনি একজন সফল খাদ্য উদ্যোক্তা। আজ তিনি প্রায় ১৮ কোটি টাকার মালিক। শুধুমাত্র মোমো বিক্রি করে তাঁর আজকে এত সফলতা। কিন্তু একসময় নিজের মায়ের অপারেশন করার টাকা ছিল না এই ব্যক্তির কাছে। তাঁর নাম দেবাশিস মজুমদার। এমনকি তিনি এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে, নিজের স্ত্রীকে এক জোড়া জুতো কেনার মতন সামর্থ্য ছিল না তাঁর। ৩৪ বছরের এই দেবিশিস মজুমদার বর্তমানে হাওড়া জেলার বাসিন্দা। তিনি একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তবে তাঁর পরিবারের ইচ্ছে ছিল তিনি যাতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাঙ্কার হয়।

তাই পরিবারের ইচ্ছে অনুযায়ী তিনি ব্যাঙ্কারের চাকরি শুরু করেছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি প্রথম চাকরি পান অফিসার এসিট্যান্ট হিসেবে। যেখানে তাঁর বেতন ছিল মোটে ১৮০০ টাকা। তাই প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরেই তিনি মাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আর এই চাকরি করতে পারবেন না। আর মায়ের অনুমতিতে তিনি চাকরি তা ছেড়েও দেন। এবার তিনি একটি অফিসের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। কিন্ত সেইখানে কাজ করা কালীন তাঁর অনেকটা সময় লেগে যায়। সেই সময়ে তিনি অফিসের বিভিন্ন কাঁচের ক্যাবিনগুলি দেখতেন, এসি ঘর দেখতেন।

যাতে তাঁরও একদিন এরকম একটা ক্যাবিন হয়।তারা এই স্বপ্নের কথা অফিসে তাঁর জেনারেল ম্যানেজারকে বলেছিলেন। এরপর তিনি তারা স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। অফিসে চার বছর কাজ করার পর তিনি ২০০৯ সালে তিনি পর কোম্পানির হিসেব রক্ষক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরেও তিনি ব্যাঙ্কার হিসেবে কাজ করে ভালো বেতন থাকেন। কিন্তু তাঁর বরাবরই ইচ্ছে ছিল একজন উদ্যোক্তা হওয়ার। তবে তাঁর ব্যাঙ্কারের চাকরি ছেড়ে দেওয়া ছিল জীবনের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। বিয়ের ছয় মাসের মধ্যেই তিনি ভালো মায়নার বেতন ছেড়ে মুশকিলে পরে যান। একমাত্র স্বপ্ন পূরণ করার জন্যে তিনি এই চাকরি ছেড়ে ছিলেন।তবে তাঁর মা ও স্ত্রী তাঁকে সম্পূর্ণ উৎসাহ দিয়েছিলেন।

এরপরই ২০১৭ সালে দেবাশিস প্রথম ব্যবসা শুরু করেন। একটি আইসক্রিমের দোকান খোলেন। কিন্তু তাতেও তিনি এই ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেনা। এই ব্যবসায় তাঁর ১০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এরপর তিনি গুয়াহাটির একটি আউটলেট পরিদর্শন দেখতে গিয়ে সেখানকার একটি মোমোর দোকান থেকে মোমো খায়। তখনই তাঁর মনে হয় তিনি এর থেকে ভালো মোমো নিজে তৈরি করে লোককে খাওয়াতে পারবেন। এরপর তিনি ব্যবসা শুরু করেন। সাড়ে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তাঁর আইসক্রিম দোকান বন্ধ করে ২০১৮ সালে মোমোমিয়া চালু করেন। আর আজ তাঁর এই দোকানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যবসার পরিচয় রাখে।

Advertisement

Related Articles