×
অফবিট

অল্প বয়সে পরিবারের চাপে করতে হয়েছিল বিয়ে! অটোচালক স্বামী পড়াশুনা করিয়ে স্ত্রীকে বানালেন ডাক্তার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমান যুগে বাল্যবিবাহ প্রায় লুপ্তপ্রায়। তবে কয়েক দশক আগেও বাল্যবিবাহের জন্যে সন্তানদের ভবিষ্যত এক্কেবারেই নিঃশেষ হয়ে যেতো বলা চলে। তবে আজকে আমাদের সমাজ অনেকটাই উন্নত। এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই স্বাধীন।নির্দিষ্ট সময়ে নারী-পুরুষ নিজেরাই নিজেদের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। আজকে আমরা আলোচনা করব, রাজস্থানের জয়পুর জেলার চৌমু এলাকার বাসিন্দা রূপা যাদবকে নিয়ে।

মাত্র ৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল তাঁর। আর তাঁর স্বামীর তখন বয়স ছিল মাত্র ১২। এত কম বয়সে বিয়ে করার পরেও, কঠোর পরিশ্রমের কারণে ২১ বছর বয়সের ‘NEET’, ২০১৭ সালে ৬০৩ নম্বর পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তার পরেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন, এরপর তিনি রংয়ের একটি সরকারি কলেজে ভর্তি হন।সেখান থেকেই তাঁর সাফল্য শুরু হয়।

বিয়ের পর রূপা যখন দশম শ্রেণীতে উঠলেন। তখনই তাঁর মা-বাবা তাঁকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, মাধ্যমিকে ৮৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। রূপার পড়াশুনা করা নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির কোনো আপত্তি ছিলনা। এরপর তিনি ১১ ক্লাসে ৮১ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৮৪ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হলেন। রূপার শ্বশুরবাড়িও রূপার বাপের বাড়ির মতন গরিব ছিল।

তাঁর স্বামী ট্যাক্সি চালিয়ে রূপার পড়াশোনার খরচ বহন করতেন। যার ফলে রূপা সহজেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছিল। রূপা ডাক্তার হওয়ার পেছনে এটা ইতিহাস রয়েছে, তাঁর কাকা বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছিলেন। সেই কারণেই রূপা ডাক্তার হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করার পর রূপা বরের পরিচিত একটি কোচিং ক্লাসে ভর্তি হয়ে যান।

তিনি প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘন্টা পড়াশোনা করতেন। তবে পড়াশোনা চলাকালীন বাঁধ সেধেছিল আর্থিক সমস্যা। যে ইন্সটিটিউটে তিনি পড়াশোনা করছিলেন সেখানে ৭৫ শতাংশ টাকা পরীক্ষার আগেই জমা দিতে হত। যদিও এতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি, এরপর কঠোর পরিশ্রমে খেটে ৬০৩ নম্বর পেয়ে ডাক্তারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন রূপা। তাঁর র‍্যাঙ্ক ছিল, ২২৮৩। রূপা এরপর এমএমবিএস-এর জন্যে বিদেশ যান। যে ইন্সটিটিউট থেকে পড়ে তিনি পাশ করেছিলেন ডাক্তারি, সেখান থেকে তাঁকে বৃত্তি দেওয়া হয়। আজ রূপা একজন সফল ডাক্তার সঙ্গে সমাজের অনুপ্রেরণাও।

Advertisement

Related Articles