×
অফবিটনিউজ

সমস্যার কারণে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল যুবককে, আজ তিনি দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার পাইলট, রইল বিস্তারিত

বিজ্ঞাপন

কোনো মায়ের কাছে তাঁর সন্তানের থেকে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। সন্তানের সুখ দুঃখ, হাসি-কান্না সবটাই মায়েদের উপর প্রভাব ফেলে। সুতরাং মা ও সন্তানের অটুট বন্ধন কেউই আলাদা করতে পারেনা। যে কারণে মা হলেন মমতার দেবী। তবে আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয়ে আমরা এমন এক মায়ের কথা জানাতে চলেছি, যিনি মা নামের কলঙ্ক। একজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানের থেকে তাঁদের পরিচয় আলাদা করে রেখেছিলেন। কারণ জন্মের পর তাঁরা জানতে পেরেছিলেন, তাঁদের সন্তান একজন ‘কিন্নড়’ বা ‘হিজড়া’ হয়েছেন। সেই কারণেই তাঁর বাবা মা তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Adam Harry (@pilotadamharry)

এখন সেই শিশুটিই আমাদের দেশের গর্ব। চলুন এই নিষ্পাপ শিশুটির সঙ্গে পরিচয় করা যাক। এই ছেলেটির নাম অ্যাডাম হ্যারি। যিনি এখন কাজ দিয়ে দেশের সবার মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। এই ছেলেটি এখন দেশের প্রথম ‘ট্রান্সজেন্ডার পাইলট’। যখন তাঁর বাবা-মা জানতে পারেন তিনি একজন হিজড়া হয়েছেন, তখনই তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এমনকী তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছেদ করে তাঁকে ত্যাজ্য পুত্র করে দেন তাঁরা।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Adam Harry (@pilotadamharry)

এরপর তিনি অনেক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটিয়ে ছিলেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে জীবনে কিছু করবেনই। তাঁর ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার, সেই কারণেই তিনি প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্সের একটি পরীক্ষা দেন। এবং ২০১৭ সালে তিনি জোহেনেসবার্গে লাইসেন্সও পেয়ে যান, একটা সময়ে তিনি আর্থিক সঙ্কটের কারণে ঠিকমতন পড়াশোনার খরচের চালাতে পারতেন না। সেই কারণে বিভিন্ন দোকানে দোকানে কাজ করতেন। লোকেরা তাঁর এই কাজটি ভালো চোখে না দেখলেও তিনি হাল ছাড়েননি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Adam Harry (@pilotadamharry)

এই ভাবে তিনি এগিয়ে চলেন, এরপর তিনি আর্থিক সাহায্যের জন্যে সামাজিক বিচার বিভাগে গিয়ে আর্থিক সাহায্য চান। এবং তখনই তাঁকে এশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সোসাইটিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি যখন কেরালার বিচার বিভাগ থেকে আর্থিক সাহায্যে চেয়েছিলেন তখন তাঁকে কেরালা সরকার তাঁর পরিশ্রম এবং উদ্যোগ দেখে তাকে ২২. ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেন। এরপর তিনি স্বপ্নকে সার্থক করেন এবং এখন তিনি বাণিজ্যিক পাইলট, দেশের গর্ব।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Adam Harry (@pilotadamharry)

তাঁর সফলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা সময়ে আমি যখন একাকী ছিলাম, আমাকে তখন সমাজ ঠিক চোখে দেখত না। এমনকী আমি সমাজের কারণে নিজের পরিচয় গোপন করে রাখতাম। সেই দিনগুলো আজও আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতন। যদিও আমিই এখন দেশের প্রথম লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রান্সজেন্ডার পাইলট। ছোটবেলায় আমি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি আমি হিজড়া বলে আমাকে মেয়ে বলে ধরা হত। আমি যখন ছোটবেলায় খেলনা খেলতাম তখনই আমার উড়োজাহাজ চালানোর স্বপ্ন তৈরি হয়। আর ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি এখন একজন সফল পাইলট।’

Related Articles