×
নিউজ

চাঁদে বিশালাকার মেশিন বসাবে জাপান! ট্রেন চলবে পৃথিবী থেকে মঙ্গল পর্যন্ত! রইল বিস্তারিত

বিজ্ঞাপন

এখন প্রায়শই চাঁদ এবং মঙ্গলে সফর করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। এই গ্রহগুলির দূরত্ব অতিক্রম করার চেষ্টাতেই রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি নিকটবর্তী গ্রহে বসতিও গড়ে তুলতে চান স্পেস এজেন্সিগুলো (Space Agency)। তবে এহেন অসম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলি আদৌ কোনোদিন বাস্তবায়িত হবে কিনা তা জানা নেই, এই নিয়ে অবিরত গবেষনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে এবার সবাইকে চমকে দিল জাপান। সাম্প্রতিক খবরানুযায়ী, জাপানের বিজ্ঞানীরা মহাকাশে যাত্রা করে দারুণ একটি পরীক্ষা করতে চলেছেন। তাঁরা এবার পৃথিবী থেকে মঙ্গলগ্রহে মহাকাশ ট্রেন চালানোর কথা ভাবছেন। এমনকি সেই ট্রেন চাঁদ পর্যন্তও যাত্রা করতে পারে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। আর অভাবনীয় প্রকল্পটি করে ফেলেছেন কিয়োটো ইউনিভার্সিটি (Kyoto University) এবং টোকিও শহরে অবস্থিত কাজিমা কর্পোরেশনের (Kajima Corporation) বিজ্ঞানীরা।

এই স্পেস ট্রেন চলবে ‘হেক্সাগন স্পেস ট্র্যাক সিস্টেম’ (Hexagon Space Track System) নামে একটি পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে। গবেষকরা বলছেন,এই আন্তঃগ্রহীয় মহাকাশ ট্রেনটি, পৃথিবী, চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহের মধ্যে ভ্রমণ করার সময় একটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সৃষ্টি করবে। এমনকি বিজ্ঞানীরা ‘দ্য গ্লাস’ (The Glass) নামে একটি বিশাল স্থাপত্য নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ভাবছেন। আর এর পেছনে তাঁদের লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে একটি ‘কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ বাসস্থান’ তৈরি করা। যা পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক অবস্থাকে অনুকরণ করেই বানানো হবে।

জানা গিয়েছে, এই বিশাল ১,৩০০ ফুট কাঠামোটি ‘স্বাভাবিক মাধ্যাকর্ষণ’ অর্জনের জন্যে প্রতি ২০ সেকেন্ড অন্তর অন্তর ঘুরবে এবং পৃথিবীর মত পরিবেশের সৃষ্টি করবে। একটি সাক্ষাৎকারে কিয়োটো ইউনিভার্সিটির এসআইসি হিউম্যান স্পেস সায়েন্স সেন্টারের (Kyoto University’s SIC Human Spaceology Center) ডিরেক্টর ইয়োসুকে ইয়ামাশিকি (Yosuke Yamashiki) জানান, ‘অন্যান্য দেশের মহাকাশ উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। মানবজাতি এখন, শুধুমাত্র মহাকাশে ভেসে বেড়ানোর যুগ থেকে চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে বসবাস করার যুগেও চলে যাচ্ছে।”

এটি অর্জনের জন্য কী ধরনের পরিবেশ, খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের দরকার? সেই প্রসঙ্গে, দ্য গ্লাসের ধারণা, “এই সুবিধায় বসবাস করার মাধ্যমে, মানুষ মানসিক শান্তির সাথে সন্তান ধারণ করতে পারে। এবং এমন একটি দেহ বজায় রাখতে পারে যা যে কোনও সময় পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।” তবে এই ধারণাটি হঠাৎ করে বাস্তবায়িত হবেনা। দ্য গ্লাস তৈরি হতে প্রায় ১০০ বছর সময় লাগবে। তবে এর একটি ছোট সংস্করণ ২০৫০ সালের মধ্যেই চাঁদে নির্মাণ হতে চলেছে। অন্যদিকে গ্লোবাল স্পেসএজেন্সি নাসা (NASA) এই দশকের শেষে মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

Related Articles