×
লাইফস্টাইল

এই লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন আপনার কিডনিতে স্টোন জমেছে, জানুন চিকিৎসকদের মতামত

বিজ্ঞাপন

আমাদের শরীরে জন্মানো ইউরিক অ্যাসিড একটি গুরুতর রোগ। যা শরীরের অনেক ক্ষতিই করতে পারে। তাই চিকিৎসকরা প্রতিটি মানুষকেই এই অসুখ নিয়ে সতর্ক করে থাকেন। কিন্তু জানেন কি, শরীরে ইউরিক অ্যাসিড কেন বাড়ে? বিপাকজনিত কারণে। আসলে এই অ্যাসিড তৈরি হওয়ার পিছনে থাকে পিউরিন। কিছু খাবারে প্রোটিনের মাধ্যমে পিউরিন (Purine) আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। তাই এখন থেকেই এই অসুখ নিয়ে সতর্ক হয়ে যান। সেই কারণেই প্রোটিন বিপাকের ফলে শরীরে তৈরি হয় এই অ্যাসিড।

বিজ্ঞাপন

এই প্রসঙ্গে এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইউরিক অ্যাসিড সকলের শরীরেই তৈরি হয়, কিন্তু সেই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বেরিয়ে যায় কিডনির মাধ্যমে। তবে বহু ক্ষেত্রে এটা হয় না, সেই কারণেই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীরে জমে কিডনিতে স্টোনের সৃষ্টি করে। তাই আপনাকে সবসময়ে কিডনি স্টোনের লক্ষণগুলি (Kidney Stone Symptoms) সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, মেয়েদের শরীরে ৬.৫-এর নীচে ও পুরুষের শরীরে ৭-এর নীচে ইউরিক অ্যাসিড থাকলে ভালো, নইলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সতর্ক হয়ে যান এক্ষুনি।

​ইউরিক অ্যাসিড কিডনি স্টোন কী?

ইউরিক অ্যাসিড কিডনি স্টোন এক গুরুতর রোগ। এই অসুখে আক্রান্ত হলে মানুষের বহু সমস্যাই দেখা দেয়। প্রথমে বালির মতো করে স্টোন তৈরি হয়। তারপর তা আকারে বড় হতে শুরু করে, তবে বেশিরভাগ সময়েই ছোট অবস্থায় নিজের থেকেই বেরিয়ে যায় কিডনি স্টোন (Kidney Stone)।

​কিডনি স্টোনের লক্ষণ?

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ছোট অবস্থায় স্টোন নিজে থেকে মূত্রনালী হয়ে বেরিয়ে যায়। তাই তখন মূত্রত্যাগ করার সময় ব্যথা হয়। তবে কিডনিতে স্টোন বড় হয়ে গেলে প্রথমে পিঠের দিকে ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথা খুবই অসহ্য। আবার কিছু ক্ষেত্রে তলপেটের দিকে যন্ত্রণা হয় এবং মূত্রের সঙ্গে রক্ত বের হয়। এটাই হল কিডনি স্টোন সিমটম।

​কিডনি স্টোন রোগ নির্ণয় কী ভাবে করবেন?

এক্ষেত্রে প্রথমে ইউএসজি করতে হবে, এরপর কিডনি, ইউরেটাস ও ব্লাডারের টেস্ট করতে হবে। তবে বহু ক্ষেত্রে এই টেস্টের পরেও রোগ ধরা পড়েনা। তখন করতে হয় সিটি স্ক্যান করলে সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই প্রতিটি মানুষকে এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

​কিডনি স্টোনের চিকিৎসা কী?

এই স্টোন যদি ০.৭ সেমি আকারের ছোট হয় তবে ওষুধের মাধ্যমে তা বের করে দেওয়া সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে ওষুধটি মূত্রনালী বড় করে দেওয়ার ফলে মূত্র দিয়ে স্টোন বেরিয়ে যায়। তবে স্টোনের আকার বড় হলে তা অপারেশন করতে হয়। এটাই কিডনি স্টোনের চিকিৎসা (Kidney Stone Treatment)।

​কিডনি স্টোন থাকলে কী কী খাওয়া বারণ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের পরেও স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে। তাই অনেকগুলো দিন ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধ খেতে হয়। এক্ষেত্রে মদ্যপান, রেডমিট, সোয়াবিন, বেশি প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খাওয়া যাবে না। নইলে ফের সমস্যায় পড়বেন।

Related Articles