×
লাইফস্টাইল

প্রেমিকার ভালোবাসা পেয়েও কেন অন্য মহিলার দিকে আকৃষ্ট হন পুরুষ? উত্তর দেখে অবাক হবেন আপনিও

বিজ্ঞাপন

প্রেমিকা খুবই ভালোবাসে, কিন্তু তারপরেও ভালোবাসার মানুষটিই ঠকিয়ে যাচ্ছে তাঁর গার্লফ্রেন্ডকে। তাঁকে লুকিয়ে অন্য মহিলার সঙ্গে প্রেমে করছেন। তবে কেন এটা হয়, এত ভালোবাসা পাওয়া সত্ত্বেও কেন ঠকায় প্রেমিকাকে তাঁর বয়ফ্রেন্ড? জানেন কী, এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে একাধিক কারণ। শুনলে অবাক হবেন আপনিও। জেনে নিন বিস্তারিত…

বিজ্ঞাপন

আসলে দুজন মানুষ একে অপরকে বিশ্বাস করে, পছন্দ করে বলেই তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক জেগে ওঠে। তাঁদের ভালোবাসার বন্ধন মজবুত হয়। একে অপরের পাশে থাকার, এবং ভরসার কারণ হয়ে ওঠে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও যেমন এই বন্ধন মজবুত হয়, আবার প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেও একই বন্ধন মজবুত হয়। তাইতো এই ভালোবাসা ও বিশ্বাসের উপর ভরসা করেই একেকটি সম্পর্ক মজবুত হয়। বিয়ের মত সারাজীবন থাকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। কিন্তু একজন সঙ্গী যখন দেখেন তাঁর ভালোবাসার মানুষই তাঁকে দিনের পর দিন ঠকিয়ে চলেছে, তখনই মনে আঘাত লাগে। জেনে নিন ঠিক কি কারণে এরকম হয়….

১. ভিন্ন লক্ষ্য: সম্পর্ক শুরুর সময়ে যতই একে অপরের প্রতি টান ও আকর্ষণ থাকুক না কেন, সম্পর্ক এগনোর সঙ্গে সঙ্গে একে অপরের খারাপ দিকগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। যখন একজন পুরুষ তাঁর প্রেমিকার লক্ষ্যর থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য আলাদা দেখে, তখনই বাড়তে থাকে দূরত্ব। তখনই প্রেমিক প্রেমিকাকে ছেড়ে যেতে দুবার ভাবেন না।

২. নানা জনের কথায় প্রভাবিত হন: আসলে সম্পর্ক ঠিক থাকলে সেই প্রেমিকাকে ছেড়ে যাওয়া ইমম্যাচিওরিটির পরিচয় দেয়। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তা ভাবনার শক্তিও বৃদ্ধি পায়। তখন নিজেই বুঝতে পারি কোনটা ঠিক কোনটা ভুল। কিন্তু বয়স কম থাকলে চিন্তাভাবনা অতটা পাকাপোক্ত হয় না। তখনই আপনার প্রেমিকের আশপাশের লোকজন আপনাকে নিয়ে তাঁর কানে নানা কথা তুলতে থাকেন, যার প্রভাব সম্পর্কের উপর পড়ে।

৩. দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকতে চান না: দীর্ঘদিন ধরে একই সম্পর্কে থাকার পরে আর নতুন সম্পর্কে জড়াতে চান না অনেকেই। একটা বয়স পর্যন্ত এই চিন্তাভাবনা এরকম থাকে। কিন্তু বয়স বাড়লে ম্যাচিওরিটি আসে। তখনই সঙ্গী নির্বাচন ও সঙ্গীর প্রতি লয়্যাল থাকার বিচক্ষণতা তৈরি হয়ে যায়। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, ঠিক সেই মুহূর্তেই দুজন মানুষের সম্পর্কের উপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা আদতে হয়ে ওঠে না। বরং সেই একই অনুভূতি নতুন সম্পর্ক থেকে পাওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই। কারণ, শ্রম দেওয়ার চাইতে আমরা অনেকেই তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তি পাওয়ার চেষ্টা করি।

৪. মানুষ বহুগামী তাই: একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, বহুগামীর প্রবণতা দুজনের মধ্যেই থাকে। এই কারণে প্রেমিক বা প্রেমিকা সঙ্গীকে জীবনের কোনও এক সময়ে গিয়ে ঠকাতে পারেন। আসলে মানুষ স্বভাবে বহুগামী (Polygamous)। আদিমযুগে মানুষ পশুর মতোই আচরণ করত। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর স্বভাবে পরিবর্তন হয়, মস্তিষ্ক উন্নত হয়। কারণ আমাদের মস্তিষ্কের সামনের অংশে রয়েছে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। যা আমাদের নীতিবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি আপনার সঙ্গীর প্রতি লয়্যাল, কিন্তু স্বভাবগত দিক থেকে তাঁর কোনও পরিবর্তন নেই। একজন মানুষ সারাজীবন এক সঙ্গীর থাকতে থাকে, একসময় বিচক্ষণতার অভাবে তাঁর প্রাকৃতিক চরিত্র তাঁকে ডমিনেট করে, সেই সময়েই অন্য মানুষের প্রতি দুর্বল হয়ে যায় আপনার সঙ্গী। তখনই মানুষ সঙ্গীকে ঠকায়।

৫. তিনি আগেও চিট করেছেন কি! আসলে যাঁর মধ্যে প্রতারণা করার প্রবণতা থাকে, তিনি সবসময়েই ঠকাতে পারেন। আপনি যাঁর সঙ্গে ডেট করছেন, তাঁর আগের প্রেমিকাকে (দের) কি চেনেন? হতেই তো পারে যে, তিনি আগের প্রেমিকাকেও ঠকিয়েছেন? কারণ, একজন পুরুষ যখন একবার ঠকাচ্ছেন, দুবার ঠকাচ্ছেন! তখন জেনে রাখবেন তিনি ভবিষ্যতে আবারও ঠকানোর আগে দুবার ভাববেন না। তাই ভেবেচিন্তে এগোবেন সম্পর্কে। তবে সব বয়ফ্রেন্ডই সমান নয়। সবার ঠকানোর কারণ এক নয়।

Related Articles